এক্সাম বই

"Exam Boi" is a free online Education Platfrom

Sunday, 22 July 2018

ঠিক কি ঘটেছিল ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই 21 July 1993 kolkata

ঠিক কি ঘটেছিল ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই

দিনটা যেহেতু বিতর্কিত, তাই এই দিন নিয়ে যত কম কথা বলা যায় তত ভালো। তবু কিছু কথা না বললে দিনটা সম্পর্কে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যায়। তাই সত্য অপ্রিয় হলেও স্পষ্টাস্পষ্টি বলাই ভালো।

প্রথমেই বলে রাখা ভালো দিনটা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে ‘শহিদ দিবস’ হিসেবে পালন করা হলেও ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৃণমূল নামক কোনো দল পশ্চিমবঙ্গের বুকে ছিলোনা। আন্দোলন হয়েছিলো যুব কংগ্রেসের পতাকার তলায়। পুলিশের গুলি অথবা সিরোসিস অফ লিভারে যে বা যারা মারা গেছিলেন তাঁরা কংগ্রেস সমর্থক ছিলেন

সালটা ছিল ১৯৯৩। দিনটি ছিল আজকেরই দিন, ২১ জুলাই। ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়েছিল তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস। তখনও তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি হয়নি। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সেই সময়ের যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন মহাকরণ অভিযান কর্মসূচীতে সামিল ছিলেন বর্তমান তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ও। সেই দিনে ওই কর্মসূচীতে পুলিসের গুলিতে শহিদ হয়েছিলেন ১৩ জন কংগ্রেস কর্মী। এরপর থেকেই প্রতিদিন ১৩ জন শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জনসভা করে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও ভোট লুঠের প্রতিবাদে এই সভা হওয়ার কথা ছিল ১৪ জুলাই। কিন্তু সেবছর ১২ জুলাই প্রাক্তন রাজ্যপাল নুরুল হাসানের মৃত্যুর জন্য কর্মসূচী নেওয়া হয় ২১ জুলাই। সেই থেকে এই দিনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই সভা আয়োজিত হয়ে আসছে। দুই দশকেরও বেশি সময়, ২৩ বছর ধরে ২১ শে জুলাই শহিদ দিবস পালন করা হয়। 


এক নজরে ১৩ জন শহিদ- 
১ বন্দনা দাস
২ মুরারী চক্রবর্তী
৩ রতন মণ্ডল 
৪ কল্যান ব্যানার্জি
৫ বিশ্বনাথ রায়
৬ অসীম দাস
৭ কেশব বৈরাগী
৮ শ্রীকান্ত শর্মা
৯ দিলিপ দাস
১০ রঞ্জিত দাস 
১১ প্রদীপ দাস
১২ মহম্মদ খালেক 
১৩ ইনু

 কিন্তু ঠিক কী হয়েছিলো ২১ জুলাই, ১৯৯৩ সেবিষয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে ওই সময়ের কিছু সংবাদপত্র থেকে। যে রিপোর্টকে পক্ষপাতদুষ্টতায় দোষী করা যায়না কোনওভাবেই।

২১ জুলাই প্রসঙ্গে ২৪ জুলাই, ১৯৯৩ দি হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিলো –“…গণ্ডগোল তৈরিতে সদাব্যগ্র সমাজবিরোধী শক্তি ও গুন্ডারা অবাধ বিচরণের দিন পেয়ে গিয়েছিলো এবং তাঁদের ওপর কংগ্রেস নেতৃত্বের কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিলোনা।…মহাকরণ ছাড়াও বিক্ষোভকারীরা কলকাতা পুরসভা দপ্তরে হামলা চালায়। একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগও রক্ষা পায়নি।… বিবেকবর্জিত ব্যক্তিদের ছড়ানো হিংসা মোকাবিলা করতে গেলে সরকারের কাছে খুব বেশী বিকল্প খোলা থাকেনা।…”

দি স্টেটসম্যান, ২৩ জুলাই লিখেছিলো – “…যদি দলের মধ্যে নিজেকে জাহির করা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও সমস্যা থেকে থাকে, নির্দোষ নাগরিকদের উপর তার দায় তিনি চাপিয়ে দিতে পারেন না।… কংগ্রেস (আই) দলের যুব শাখার অপরিণত নেতৃত্বের দ্বারা সংগঠিত পূর্বপরিকল্পিত হিংস্রতা ও রাজ্য কংগ্রেস দলের সম্পূর্ণ অসহায়তা।…”

আনন্দবাজার পত্রিকা ২৩ জুলাই, ১৯৯৩-এর প্রতিবেদন অনুসারে – “…দেশের সমূহ সমস্যাগুলি কিন্তু তাহার দৃষ্টি সম্পূর্ণ এড়াইয়া গিয়াছে। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর তাঁহার সাড়া মেলে নাই।… নিন্দনীয় জবরদস্তি মহাকরণ দখলের উদ্যোগ।…”

দি টেলিগ্রাফের ২২ জুলাই-এর প্রতিবেদন অনুসারে – “…এই কংগ্রেস নেত্রী জনতাকে খেপিয়ে দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো সাফল্যই পাননি।… স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ আগ্রহহীন একজন দায়িত্বজ্ঞানহীন নেত্রী হিসেবেই কুখ্যাতি অর্জন করছেন তিনি।…”

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার ২৩ জুলাই, ১৯৯৩ তারিখের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিলো – “…নৈরাজ্যই পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করে। … দোকান লুট, সরকারি যানবাহন ও গাড়ি পোড়ানো, কর্তব্যরত পুলিশকে গালিগালাজ করা। … একজন নেত্রীর অহংবোধের তৃপ্তি ছাড়া গোটা বিক্ষোভটির অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিলোনা।…”

এ তো গেল ২১ জুলাই ১৯৯৩ নিয়ে তৎকালীন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন। আজ থেকে ২৪ বছর আগে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার এত চল ছিলোনা। ফলত প্রিন্ট মিডিয়ার এই রিপোর্টগুলো থেকে সেদিন কী ঘটেছিলো সে সম্বন্ধে একটা ধারণা করে নেওয়া খুব একটা কষ্টকর নয়।

No comments:

Post a Comment